ক্রেতা না থাকায় পশু নিয়ে বিপাকে খামারীরা পুঁজি ফিরে পাওয়ায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে খামারিদের সামনে

ডেস্ক নিউজ : আর মাত্র কিছু দিনের মধ্যেই কোরবানীর ঈদ। আর তাই এই ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় অতিরিক্ত কোন হাটের অনুমতি না দিলেও জেলায় আগের থেকে চলতি ২০ টি হাটে বিক্রি হচ্ছে কোরবানীর পশু। ইতি মধ্যে হাট জমে উঠলেও দেখা নেই ক্রেতার। তাই কোরবানীর পশু নিয়ে বিপাকে কুষ্টিয়ার প্রায় ৩৮ হাজার খামারী। তারা বলছে এবারে তাদের পশু বিক্রি না করতে পারলে পথে বসা ছাড়া কোন পথ থাকবে না। তবে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের।

কুষ্টিয়ার জেলার অন্যতম বৃহত্তম পশুর হাট সদর উপজেলার আলামপুরের পশুর হাট। এখানে প্রতি হাটে গরু, ছাগল, ভেড়া মহিষসহ কয়েক হাজার পশু আনা হয়েছে কোরবানী উপলক্ষে বিক্রির জন্য। কিন্তু হাজার হাজার পশু থাকলেও তা কেনার জন্য কোন ক্রেতা নেই। এমন চিত্র জেলার প্রতিটি পশুর হাটে। অন্যান্য বছরের এই সময় সাধারনত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপারীরা গরু ছাগল কিনতে আসলেও এবারে তাদের দেখা নেই। দুই একজন ক্রেতা থাকলেও তারা পশুর দাম বলছে অনেক কম। তাই এবারের কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে যারা কিছু লাভের আসায় পশু পালন করেছিলো তারা পড়েছে মহা বিপদে। গরু হৃষ্ট পুষ্ট করা কুষ্টিয়ার ঐতিহ্য। এ জেলায় এমন বাড়ী খুজেঁ পাওয়া দুষ্কর, যেখানে দু’ একটি গরু নেই। এখানকার খামারীরা আর কৃষকরা কোরবানীর ঈদের পরে কমদামে ছোট গরু কিনে লালন পালন শুরু করে। অল্প অল্প করে টাকা বিনিয়োগ করে এসব খামারে ও বাড়ীতে বাড়ীতে পারিবারিক আদলে গরুকে মোটাতাজা করেন তারা। উদ্দেশ্য, কোরবানির ঈদে বিক্রি করে একবারে হাতে টাকা পাওয়া ও কিছু লাভের আশা। তাই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু চাষীরা বাজারে গরু বিক্রয়ের জন্য নিয়ে যায়। গরু বিক্রেতারা বলেন সকাল থেকে বাজারে গরু বিক্রয় করতে এসে এখন পর্যন্ত কোনো ক্রেতা তাদের কাছে এসে দাম জিঙ্গাসা করেননি। এই করোনা ভাইরাস এসে তারা এখন এই গরু বিক্রয় না করতে পেরে চিন্তায় দিশে হারা।

ঢাকা-চট্টগ্রামে কুষ্টিয়ার গরুর চাহিদা থাকায় লোকসান কাটিয়ে উঠতে এবার লাভের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। খামারী ও কৃষকরা বলছেন, গরুর সব রকম খাদ্যে দাম বেড়েছে। তবে মহামারী করোনা ভাইরাসে পড়ে বিপাকে পড়েছে গরু চাষীরা। প্রতিবছরে এই সময় বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড় রড় গরুর ব্যাপীরা এসে গুরু ক্রয় করে নিয়ে যেতেন।কিন্তু এবার দেখা নেই ব্যাপারির। যদিও দুই একজন ব্যাপারি আসছে তারা দাম বলছে খুবই কম। তাই খামারিদের আশঙ্কা এবারও যদি লোকসান হয় তবে সব পুজি হারিয়ে পথে বসতে হবে তাদের।

করোনা সংক্রমন ঠেকাতে পশু বাজার ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম হোসেন জানান, অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহনে সার্বিক সহায়তা করবে প্রশাসন।

জেলায় এবার ৩৪ হাজার খামারে প্রায় ১ লাখ গরু ও ৭০ হাজার ছাগল লালন পালন করেছেন খামারিরা। জেলায় ৩০ ভাগ চাহিদা মিটিয়ে এসব পশু চলে চাই ঢাকা ও চট্টগ্রামে। তবে করোনার কারনে এবার অর্ধেকের বেশি পশু অবিক্রিত থাকতে পারে শঙ্কা খামারিদের। এতে বড় লোকসানে পড়বেন জেলার প্রান্তিক খামারিরা।