বিএনপির সংসদ সদস্যদের অভিযোগ ‘আওয়ামী লীগ এখন মানুষকে বিশ্বাস করে না’

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট মানুষকে বাঁচানোর জন্য ঘোষণা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। এ জন্য তারা সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে চলমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্যদের বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় এ অভিযোগ করেন তারা।

বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের (জিএম সিরাজ) পরিচালনায় আলোচনায় অংশ নেন উকিল আবদুস সাত্তার, হারুনুর রশিদ, মোশাররফ হোসেন, জাহেদুর রহমান, আমিনুল ইসলাম ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।উকিল আবদুস সাত্তার বলেন, সরকার করোনা সংকটের সময় যে অবাস্তব কথা বলছে তা সত্যিই দুঃখজনক। এই সংকটের মুহূর্তে একটি জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। যেখানে সব দলের অংশগ্রহণ থাকবে। সব দল থেকে লোক নিয়ে একটি জাতীয় কমিটি করা হোক।

গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, যাদের জন্ম মাটি থেকে হয়েছে সেই দলেরই মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ হয়ে গেছে। সেই দল আওয়ামী লীগ এখন মানুষকে বিশ্বাস করে না। সেই দল দেশের মাটিকে বিশ্বাস করে না। সেই দলের আজ অদ্ভুত আচরণ। শুধু তারা এ সব করছে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। তিনি বলেন, এবার যে বাজেট ঘোষণা হওয়া উচিত ছিল তা হল আপৎকালীন এবং সংকট উত্তরণের বাজেট। কিন্তু সেটা আমরা দেখিনি। এটা একটা স্বাভাবিক বাজেট বলে আমার মনে হয়েছে।

হারুনুর রশিদ বলেন, এই করোনার সময় যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে সেটাকে কোনো মিডিয়ায় আমি দেখিনি যে স্বাগত জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের যারা বাজেট বিশেষজ্ঞ তারা কেউ এই বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছে সেটাও আমি দেখিনি। বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সবাই বলেছে, এটা একটা অস্বাভাবিক এবং কল্পনাবিলাসী বাজেট।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা যদি করোনার সময়টা ভালোভাবে অতিক্রান্ত করতে চাই এটার ড্রাইভিং পজিশনে বসে সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আর্থিক অনুদানের জন্য সরকার যে লোনটা দিয়েছে এটা নিয়ে সারা দেশে খুব বাজে কথা হচ্ছে। সবাই বলছে, এই টাকা কোথায়? কীভাবে দেয়া হচ্ছে। আমি বলি, এ সব না বলে সবকিছুর জন্য একটা মনিটরিং সেল গঠন করেন।

মোশাররফ হোসেন বলেন, এবারে যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, এটার আকার এতটাই বড় যে এর বাস্তবায়ন কীভাবে হবে? এই টাকা কোথা থেকে আসবে? এই করোনাকালীন এর খবর অর্থমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা মনে হয় জানেন না। উন্নত বিশ্বে আমরা যেটা দেখেছি মূল বাজেট পরিচালনা করার জন্য ছয় মাসের একটা প্রাক-বাজেট করা হয়। আমিও মনে করেছিলাম এই করোনা মহামারী মোকাবেলার জন্য ছয় মাসের একটা বাজেট দেয়া হবে। কিন্তু করা হয়েছে এর উল্টোটা। এই বাজেট একটা উচ্চবিলাষী বাজেট। এত বড় বাজেটের অর্থের উৎসটা কোথায় সেটা কিন্তু অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেননি তার বাজেট বক্তৃতায়। বাজেটের উদ্দেশ্য যদি জনগণের উন্নয়ন হয়ে থাকে তাহলে এই বাজেটে আরও অনেক কিছু যোগ করা প্রয়োজন ছিল।

জাহেদুর রহমান বলেন, করোনা শুরু থেকেই সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মূলত তাদের এই ব্যর্থতার কারণেই দেশের এই হাল হযেছে। সরকারে এমন পদক্ষেপের কারণেই দেশের মানুষের জীবন আজ হুমকির মুখে পড়ে গেছে।

রুমিন ফারহানা বলেন, সংসদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন হচ্ছে বাজেট সেশন। কিন্তু এই বাজেট সেশন শুরুর সময় সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে আমরা বলতে শুনেছি অদৃশ্য ভাইরাসের ভয়ে তো আর সবকিছু বন্ধ করে রাখা যাবে না। অদৃশ্য ভাইরাসকে আপনি ভয় না-ই পাবেন, কারণ আপনাকে তো আর চিকিৎসার জন্য একটার পর একটা হাসপাতালে দৌঁড়াতে হবে না। যখন জানবেন বিশ্বের সর্বোচ্চ হাসপাতালে আপনার চিকিৎসার জন্য চার্টার্ড প্লেন রেডি করা আছে তাহলে তো আপনি এই অদৃশ্য ভাইরাস নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করবেনই। তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি এই বাজেট সেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই বাজেট অধিবেশন আমরা ভার্চুয়ালির করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার সে প্রস্তাব মিডিয়াতে আসছে, সব জায়গায় প্রচার হয়েছে তারপরও সংসদ ভার্চুয়ালি করা হয়নি। কিন্তু এর ফল যেটা হল সম্পূরক বাজেট ঘোষণার একদিন পরই সংসদ মুলতবি হয়ে গেছে। শুধু ২৩ জুন বাজেটের উপর আলোচনা হয়েছে। বাজেটের মতো জরুরি সেশন কেবল একদিনে আলোচনা করে পাস হওয়ার নজির বাংলাদেশের ইতিহাসে নেই। আমার বিশ্বাস করোনার মতো একটা সংকটের মধ্যে যে বাজেট দিয়েছে সমালোচনা হবে সেটা সরকার আগ থেকেই আঁচ করতে পেড়েছিল। সরকার চাইলেই এক মাসব্যাপী ভার্চুয়ালি এই অধিবেশন চালাতে পারত। যাতে করে সংসদ সদস্যরা মন খুলে তাদের মতামত দিতে পারত। মূলত সরকারের ভুলগুলো ঢাকা দেয়ার জন্যই একদিনের মধ্যে বাজেটের আয়োজন করেছে তারা।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, আমাদের অর্থনীতি নাকি উন্নত দেশের মতোই শক্তিশালী। গত কয়েক মাস ধরেই এমন প্রোপাগাণ্ডা শুনে আসছি। বিশ্বে করোনা সংক্রমণের দুই মাস পরে আমাদের দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। কিন্তু এই সময় সরকারের লোকেরা বলেছে তারা করোনার চেয়ে শক্তিশালী। তাই আমি মনে করি, কথা দিয়ে যদি করোনা মোকাবিলা করা যেত তাহলে বাংলাদেশ করোনা মোকাবিলায় চ্যাম্পিয়ন হতো। আমাদের মতো দেশে যেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা লুটপাটের মধ্যে রয়েছে সেখানে রোগের প্রতিরোধের চেয়ে রোগের প্রতিষেধক নেয়াটাই জরুরি।