ভারতের ক্রিকেট বোর্ড চাইলেই চীনা সঙ্গ ছাড়তে পারবে না

স্পোর্টস ডেস্ক : কাশ্মীরের লাদাখ সীমান্তে ভারত-চীন যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই ভারতজুড়ে চীনা পণ্য বয়কটের ডাক উঠেছে। যে কারণে বেশ সমস্যায় পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। কারণ আইপিএলসহ ভারতীয ক্রিকেটে একাধিক স্পনসর হয়তো চীনের, না হয় চীন এবং ভারতের যৌথ অংশীদারদের মালিকানাধীন। লাদাখে চীনা সেনাদের হামলায় ভারতের ২০জন সেনা সদস্যের মৃত্যুর পরই আইপিএলে সব ধরনের চীনা স্পনসর বাতিলের দাবি উঠছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই দাবি জোরাল করেছে ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ নামের বণিকসভাও।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাইলেই খুব সহজে চীনা কোম্পানিগুলির সঙ্গে চুক্তি ভাঙতে পারবে না বিসিসিআই। কারণ, করোনার কারণে এমনিতেই বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে ভারতীয় বোর্ড। তার উপর এতবড় ধাক্কা সামলানো তাদের জন্য সত্যিই কঠিন হয়ে যাবে।‘অপ্পো’, ‘ভিভো’, ‘আলিবাবা’, ‘পে-টিএম’সহ সমস্ত চীনা কোম্পানিই ভারতীয় ক্রিকেটে বড় অঙ্কের টাকা ঢেলে যাবে। ভারতীয় বোর্ডের ‘সোনার হরিণ’ আইপিএলের টাইটেল স্পনসর ‘ভিভো’। যেটা চীনের মোবাইল কোম্পানি। শুধুমাত্র ভিভোই প্রতি বছর আইপিএল আয়োজনের জন্য বিসিসিআইকে দেয় ৪৪০ কোটি রুপি।

পাঁচ বছরে মোট ২ হাজার ২০০ কোটি রুপির চুক্তি আছে ভিভোর সঙ্গে। এ ছাড়াও খুচরো কিছু চীনা কোম্পানি ভারতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে জড়িত। ভারতীয় দলের পুরনো স্পনসর ছিল ‘অপ্পো’। যা চীনের কোম্পাানি। বর্তমানে ‘বাইজু’ তাতেও শোনা যাচ্ছে চীনের অংশ রয়েছে। এদের সবার মিলিত স্পনসরশিপের টাকা যদি ধরা হয়, তাহলে বিসিসিআই’র সিংহভাগ আয়ই হলো চীনা বা চীনা অংশীদারি কোম্পানি থেকে। করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এমনিতেই দুর্দিনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একই অবস্থা ক্রিকেটেও। এমন অবস্থায় যদি চীনা স্পনসরদের বাতিল করতে হয়, তাহলে নতুন করে ওই বিপুল অঙ্কের স্পনসরশিপ জোগাড় করাটা বিসিসিআইর পক্ষে সহজ হবে না।

সে কারণেই ভারতীয় বোর্ডে সহজে চীনা স্পনসর বাতিল করতে পারবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শোনা যাচ্ছে, বিসিসিআইও এ নিয়ে চূড়ান্ত দোলাচলের মধ্যে রয়েছে। একে তো এ বছর আইপিএল হওয়া নিয়ে এখনও কোনও নিশ্চয়তা নেই। তার উপর যদি স্পনসর বাতিল করতে হয়, তাহলে সেই ধাক্কা বোর্ডের পক্ষে সামলানো সম্ভব হবে না। সুতরাং, যতদিন না ভারতীয় সরকার পুরোপুরি চীনা পণ্য এবং স্পনসর বাতিল ঘোষণা করছে, ততদিন বিসিসিআইও স্পনসর বাতিল করার কথা ভাববে না। বিসিসিআই সূত্রের খবর, আগামী শুক্রবার যে বৈঠক হওয়ার কথা, সেখানেই এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। আইপিএল শুরুর তারিখ নিয়েও সেদিন আলোচনা হতে পারে।